আমাদের গণনা-পদ্ধতি
MyAstrology-র প্রতিটি কুণ্ডলী, পঞ্জিকা ও মিলন কীভাবে গণনা হয় — আর গণনা কীভাবে যাচাই করা হয়।
গ্রহের অবস্থান
প্রতিটি কুণ্ডলী আমাদের নিজস্ব গণনা-ইঞ্জিনে তৈরি হয় — কোনো বাইরের সফটওয়্যার ভাড়া করে নয়। সূর্য ও গ্রহের অবস্থান আসে VSOP87 তত্ত্ব থেকে, চন্দ্রের অবস্থান ELP-2000/82 তত্ত্বের সংক্ষিপ্ত সূত্র থেকে — দুটোই জ্যোতির্বিজ্ঞানে স্বীকৃত গাণিতিক মডেল। রাহু-কেতু ধরা হয় মধ্য পাত (mean node) থেকে — বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত পঞ্জিকার ছাপা গ্রহস্ফুটও তাই নেয় (১ ডিসেম্বর ২০২৬: ছাপায় কুম্ভ ০°১৪′৪৯″, আমাদের ০°১৪′৫০″)।
পঞ্জিকার গ্রহ-সারণী তৈরি নাসার JPL-এর DE441 গ্রহ-অবস্থান থেকে। সারণীর প্রতিটি দিন আমাদের ইঞ্জিনের সঙ্গে, আর কয়েকটি তারিখ সরাসরি JPL Horizons-এর সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষায় মেলানো হয়।
কুণ্ডলী-ইঞ্জিনের সাত গ্রহ Swiss Ephemeris-এর সঙ্গে ১৯৫০ থেকে ২০৫০-এর ৪০১টি তারিখে মেলানো হয়: শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি ৬ বিকলার মধ্যে, সূর্য ৮, চন্দ্র ২৬ ও বুধ ৭৫ বিকলার মধ্যে — প্রতিটি তারিখে রাশি ও নক্ষত্র এক। লগ্ন দশটি শহরের ৪০১টি ছকে ২ বিকলার মধ্যে। ইঞ্জিন বদলালেই এই পরীক্ষা আবার চলে।
অয়নাংশ
নিরয়ন গণনার জন্য লাহিড়ী (চিত্রাপক্ষ) অয়নাংশ ব্যবহার হয় — ভারত সরকারের রাষ্ট্রীয় পঞ্চাঙ্গে যা গৃহীত। মান নেওয়া হয় বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত পঞ্জিকার ছাপা মাসিক সারণী থেকে; যে সালের ছাপা মান হাতে নেই, সেখানে লাহিড়ী সূত্র, যা ছাপা মানের সঙ্গে ০.৩ বিকলার মধ্যে মেলে। সাইট ও অ্যাপের প্রতিটি গণনা এই একই উৎস থেকে আসে।
পঞ্জিকা ও উৎসব
তিথি, নক্ষত্র, যোগ, করণ ও উৎসবের দিন-সময় বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে গণনা করা হয়, আর প্রকাশিত পঞ্জিকার সঙ্গে মিনিট ধরে মেলানো হয় — ফারাক থাকলে তা এক মিনিটের মধ্যে। উদাহরণ: কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ২৬ অক্টোবর ২০২৬; পূর্ণিমা শুরু ২৫ অক্টোবর বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে — ছাপা পঞ্জিকা ও আমাদের গণনায় একই।
হিন্দি ও ইংরেজি পঞ্চাঙ্গ বাংলার অনুবাদ নয় — সেগুলো উত্তর-ভারতীয় রীতি মানে: দিনের তিথি ধরা হয় পাঠকের নিজের শহরের সূর্যোদয়ে, সূর্যোদয় সূর্যবিম্বের ঊর্ধ্বপ্রান্তে প্রতিসরণ সহ (দৃক রীতি; চাইলে বিম্ব-কেন্দ্র), মাসের নাম পূর্ণিমান্ত বা অমান্ত — পাঠক বেছে নেন, আর অমৃত কাল প্রশ্নমার্গের অমৃত-ঘটি সারণী (বি. ভি. রমনের সংস্করণ) থেকে। বাংলা পঞ্জিকা ছাপা বিশুদ্ধসিদ্ধান্তের মতোই চলে — কলকাতার সূর্যোদয়, সূর্যবিম্বের কেন্দ্র।
বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা নিজে জানায়, তাদের গণনা ভারত সরকার প্রকাশিত রাষ্ট্রীয় পঞ্চাঙ্গের পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর এই পদ্ধতি মেঘনাদ সাহা ও নির্মলচন্দ্র লাহিড়ীর স্বীকৃতি পেয়েছিল। পঞ্জিকার কৃতজ্ঞতা-স্বীকার অনুযায়ী আনন্দবাজার পত্রিকা, বর্তমান, দৈনিক স্টেটসম্যান, খবর ৩৬৫ দিন, সংবাদ প্রতিদিন ও আজকাল প্রতিদিনের বাংলা তারিখ এই পঞ্জিকা মতেই ছাপে।
প্রতিটি দিবস ও মহাপুরুষের জন্মদিন নিজের বছর মানে — কারও জন্মের আগের বছরের পঞ্জিকায় তাঁর জন্মদিন দেখানো হয় না।
দশা
বিংশোত্তরী মহাদশা, অন্তর্দশা ও প্রত্যন্তর্দশা গণনা হয় জন্মকালীন চন্দ্রের নক্ষত্র-অবস্থান থেকে। অন্তর্দশার প্রতিটি মেয়াদ হরিহর মজুমদারের ফলিত জ্যোতিষ গ্রন্থের সারণীর ৮১টি ঘরের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা।
কোষ্ঠী-মিলন
অষ্টকূট গুণ-মিলন গণনা হয় ছাপা যোটকচক্র ও শাস্ত্রগ্রন্থের নিয়মে। যেখানে দুই সূত্রে মতভেদ আছে, সেখানে একটি পথ বেছে নেওয়া হয় জ্যোতিষীর শাস্ত্রীয় রায়ে, আর রিপোর্টে কারণটা খোলাখুলি লেখা থাকে।
গুলিক, মান্দি ও প্রাণপদ
কুণ্ডলীতে গুলিক লগ্ন, মান্দি লগ্ন ও প্রাণপদ লগ্ন গণনা হয় হরিহর মজুমদারের গ্রন্থের নিয়মে। গুলিক ও প্রাণপদের ক্ষেত্রে গ্রন্থের নিজের উদাহরণ চালিয়ে ফল মেলানো হয়; মান্দির অঙ্ক গ্রন্থের সারণীর সঙ্গে মেলানো। সূর্যোদয় ধরা হয় জন্মস্থানের নিজের।
গ্রহের বল ও দুর্বলতা
বর্গচক্রের নিয়ম — হোরা, সপ্তাংশ, নবাংশ ও দ্বাদশাংশ — হরিহর মজুমদারের ফলিত জ্যোতিষ গ্রন্থের নিয়মে আলাদা করে লিখে আমাদের ইঞ্জিনের সঙ্গে রাশিচক্রের ৩,৬০,০০০টি বিন্দুতে মেলানো হয়েছে; একটাও অমিল নেই।
অস্তগত গ্রহ দুর্বল ধরা হয় একই গ্রন্থের অংশ-সীমায়: বৃহস্পতি ১১°, শনি ১৫°, মঙ্গল ১৭°, চন্দ্র ১২°, শুক্র ১০° (বক্রী হলে ৮°), বুধ ১৪° (বক্রী হলে ১২°)। গ্রন্থের কথামতো শুক্র ও শনি অস্তেও সম্পূর্ণ বলহীন হয় না।
শত্রুক্ষেত্রে থাকা গ্রহের বিচার হয় ছাপা নৈসর্গিক মৈত্রী-সারণী থেকে — যেমন চন্দ্রের কোনো নৈসর্গিক শত্রু নেই, তাই চন্দ্র কোনো রাশিতেই শত্রুক্ষেত্রী হয় না।
বক্রী গ্রহ দুর্বল নয়, বলবান — পরাশরের ষড়বল-নীতিতে বক্রী গ্রহ পূর্ণ চেষ্টাবল পায়, বি. ভি. রমনও যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
ষড়বল গণনা হয় বি. ভি. রমনের Graha and Bhava Balas গ্রন্থের পদ্ধতিতে — সপ্তবর্গজ বল, কালবলের নয়টি ভাগ, চেষ্টা ও দৃক বল সহ। গ্রন্থের নিজের উদাহরণ-কুণ্ডলীর ৪৯টি সংখ্যা আমাদের ইঞ্জিনে চালিয়ে মেলানো হয়েছে; সবচেয়ে বড় ফারাক ০.১১ ষষ্ট্যংশ। গ্রহের মোট বল তার ন্যূনতম প্রয়োজনের সমান বা বেশি হলে গ্রহ বলবান।
তিন ভাষা, এক গণনা
বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি — তিন ভাষাতেই একই ইঞ্জিন একই ফল দেয়; কেবল লেখা অনূদিত হয়। ওয়েবসাইট ও Android অ্যাপ দুটোই এই একই গণনা ব্যবহার করে।
AI-র ভূমিকা
গণনা AI করে না। গ্রহের অবস্থান, তিথি, দশা, গুণ-মিলন ও বল — সবই আমাদের ইঞ্জিনের নির্দিষ্ট সূত্রে গোনা হয়, আর উপরের পরীক্ষাগুলোতে মেলানো হয়। ইঞ্জিনের কোড লেখা হয়েছে AI সহকারীর সাহায্যে; প্রতিটি নিয়ম বসে জ্যোতিষীর রায়ে, আর প্রতিটি বদল পরীক্ষা পেরিয়ে তবে প্রকাশ পায়।
দৈনিক রাশিফল একটি প্রোগ্রাম লেখে — সেদিনের গোচর থেকে, বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত পঞ্জিকার গোচর-ফলের মূল শব্দ ধরে। বাক্যের খসড়া AI-র সাহায্যে তৈরি, তবে ফল শুভ না অশুভ তা ঠিক করে পঞ্জিকার নিয়ম।
প্রিমিয়াম রিপোর্টের বিস্তারিত লেখা Google-এর Gemini AI তৈরি করে, আমাদের ইঞ্জিনের গণনা থেকে — গ্রহের অবস্থান বা দশা AI নিজে ঠিক করে না। প্রতিটি প্রিমিয়াম রিপোর্ট গ্রাহককে দেওয়ার আগে ড. প্রদ্যুৎ আচার্য নিজে পড়েন ও দরকারে সংশোধন করেন।
শাস্ত্রীয় তত্ত্বাবধান
গণনার নিয়ম বসানো হয় ছাপা গ্রন্থ ও পঞ্জিকা দেখে; গ্রন্থে মতভেদ বা অস্পষ্টতা থাকলে সিদ্ধান্ত নেন ড. প্রদ্যুৎ আচার্য (PhD, বৈদিক জ্যোতিষ)। গ্রন্থে সূত্র না পেলে সে নিয়ম আন্দাজে বসানো হয় না। ফলাদেশের সব বাক্য গ্রন্থের হুবহু নয় — অনেকটা ব্যাখ্যামূলক লেখা, যার কিছু AI-র সাহায্যে তৈরি (উপরে দেখুন)।
সীমা, যা খোলাখুলি বলা দরকার
জন্মসময় যত নির্ভুল, কুণ্ডলী তত নির্ভুল — লগ্ন গড়ে প্রতি চার মিনিটে প্রায় এক অংশ সরে যায়, তাই কয়েক মিনিটের ভুলেও লগ্নের অংশ বদলাতে পারে।
আমাদের রিপোর্ট জ্যোতিষ-নির্দেশিকা; চিকিৎসা, আইনি বা আর্থিক পেশাদার পরামর্শের বিকল্প নয়।
নিজে চালিয়ে দেখুন — সবই বিনামূল্যে:
কুণ্ডলী · কোষ্ঠী-মিলন · পঞ্জিকা · রাশিফল