🌐 এই লেখা অন্য ভাষায়: English · हिन्दी
"সময়ের ক্ষুদ্রতম অংশটিও আকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের ছন্দে বাঁধা। প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানে সময়কে ভাগ করার সূত্রগুলো সেই ছন্দেরই গাণিতিক প্রতিচ্ছবি।"
ভারতীয় কালগণনা বা পঞ্চাঙ্গ ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় অংশ হলো 'চৌঘড়িয়া' (Choghadiya)। উত্তর ভারত, পশ্চিম ভারত (বিশেষত গুজরাট ও রাজস্থান) এবং হিন্দি বলয়ে দৈনন্দিন শুভ-অশুভ ক্ষণ দেখার জন্য এই পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় — নতুন দোকান খোলা, যাত্রা শুরু বা কেনাকাটার আগে অনেকেই চৌঘড়িয়া দেখে নেন। বঙ্গীয় পঞ্জিকায় যেমন দিনমানকে ১৫ ভাগে ভাগ করে 'মুহূর্ত' এবং তা থেকে অমৃতযোগ-মাহেন্দ্রযোগ নির্ণয় করা হয়, চৌঘড়িয়ার গাণিতিক চক্র তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আজ সেই চক্রটাই খুলে দেখব।
'চৌঘড়িয়া' নামের অর্থ 'চার ঘড়ি' — এক ঘড়ি বা ঘটি ২৪ মিনিট, তাই চার ঘড়ি ৯৬ মিনিট। নামটা মোটামুটি মাপ বোঝায়, কিন্তু আসল ভাগ হলো দিনমানের আট ভাগের এক ভাগ। দিন ও রাত সমান (১২ ঘণ্টা) হলে এক চৌঘড়িয়া ঠিক ৯০ মিনিট, অর্থাৎ পৌনে চার ঘড়ি। গ্রীষ্মে দিনের চৌঘড়িয়া এর চেয়ে লম্বা, শীতে ছোট।
চৌঘড়িয়া কী এবং এর জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ভিত্তি
চৌঘড়িয়া হলো গোটা অহোরাত্রকে (দিন ও রাত) নির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করার একটি পদ্ধতি, যার ভিত্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। দিন আর রাত এখানে দুটি স্বাধীন সময়কাল।
দিনমানের বিভাজন: সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় 'দিনমান'। এই দিনমানকে ৮টি সমান ভাগে ভাগ করা হয়; প্রতিটি ভাগ দিনের একেকটি চৌঘড়িয়া।
রাত্রিমানের বিভাজন: সূর্যাস্ত থেকে পরদিন সূর্যোদয় পর্যন্ত 'রাত্রিমান'; এটিকেও ৮টি সমান ভাগে ভাগ করা হয়। তাই চৌঘড়িয়া কোনো স্থির ঘণ্টার স্লট নয় — প্রতিদিন, প্রতিটি শহরে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত অনুযায়ী তার দৈর্ঘ্য আলাদা।
📖 গুরুত্বপূর্ণ অংশ: চৌঘড়িয়া সবসময় স্থানীয় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ওপর নির্ভর করে। আর সূর্যোদয় ধরার রীতিও দুই রকম — সূর্যের ঊর্ধ্বপ্রান্ত (Upper Limb) বা বিম্বকেন্দ্র (Central Disc); তাই দুই পঞ্চাঙ্গে চৌঘড়িয়ার শুরু দু-তিন মিনিট আলাদা হতে পারে। MyAstrology-র হিন্দি পঞ্জিকায় দুটো রীতিই বেছে নেওয়া যায়।
৭ প্রকার চৌঘড়িয়া এবং তাদের অধিপতি গ্রহ
দিনমান ও রাত্রিমান ৮ ভাগে ভাগ হলেও চৌঘড়িয়া ৭ প্রকারের, আর প্রতিটির একজন অধিপতি গ্রহ:
শুভ চৌঘড়িয়া: ১. অমৃত — অধিপতি চন্দ্র; সব কাজের জন্য প্রশস্ত। ২. শুভ — অধিপতি বৃহস্পতি; বিবাহ, গৃহপ্রবেশ ও ধর্মীয় কাজে শ্রেষ্ঠ ধরা হয়। ৩. লাভ — অধিপতি বুধ; ব্যবসা, আর্থিক কাজ ও বিদ্যারম্ভে ফলপ্রসূ ধরা হয়।
মধ্যম চৌঘড়িয়া: ৪. চর (চল) — অধিপতি শুক্র; মধ্যম ফল, বিশেষত যাত্রার জন্য ভালো ধরা হয়।
অশুভ চৌঘড়িয়া: ৫. উদ্বেগ — অধিপতি সূর্য। ৬. রোগ — অধিপতি মঙ্গল। ৭. কাল — অধিপতি শনি। এই তিনটিতে নতুন শুভ কাজ শুরু না করার রীতি।
চৌঘড়িয়ার গাণিতিক চক্র: হোরার গ্রহক্রম
চৌঘড়িয়ার পরম্পরা চলে হোরার গ্রহক্রমে — সূর্য → শুক্র → বুধ → চন্দ্র → শনি → বৃহস্পতি → মঙ্গল, আবার সূর্য। অর্থাৎ চৌঘড়িয়ার ক্রম: উদ্বেগ → চর → লাভ → অমৃত → কাল → শুভ → রোগ → উদ্বেগ …
দিনের প্রথম চৌঘড়িয়া সেই বারের অধিপতির: রবিবার উদ্বেগ (সূর্য), সোমবার অমৃত (চন্দ্র), মঙ্গলবার রোগ (মঙ্গল), বুধবার লাভ (বুধ), বৃহস্পতিবার শুভ (বৃহস্পতি), শুক্রবার চর (শুক্র), শনিবার কাল (শনি)।
"প্রকার ৭টি, কিন্তু ভাগ ৮টি — তাই ৭টি চৌঘড়িয়া পেরিয়ে চক্র ঘুরে ৮ম ভাগে আবার প্রথমটিই ফিরে আসে।"
রবিবারের দিন ও রাতের চৌঘড়িয়ার পূর্ণ উদাহরণ
রবিবার — দিন: ১ম উদ্বেগ · ২য় চর · ৩য় লাভ · ৪র্থ অমৃত · ৫ম কাল · ৬ষ্ঠ শুভ · ৭ম রোগ · ৮ম আবার উদ্বেগ।
রাতের চক্র একটু অন্যভাবে চলে: রাতের প্রথম চৌঘড়িয়া দিনের প্রথমটি থেকে হোরাক্রমে ষষ্ঠ (পাঁচ ঘর পরে), আর তারপর প্রতিটি চৌঘড়িয়া ক্রমে দুই ঘর করে পিছিয়ে আসে। রবিবার — রাত: ১ম শুভ · ২য় অমৃত · ৩য় চর · ৪র্থ রোগ · ৫ম কাল · ৬ষ্ঠ লাভ · ৭ম উদ্বেগ · ৮ম আবার শুভ। এখানেও প্রথমটি ৮ম ভাগে ফিরে আসে।
একটি মাপা উদাহরণ — রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, দিল্লি (ঊর্ধ্বপ্রান্তের সূর্যোদয় সকাল ৬:২০): দিনের অমৃত চৌঘড়িয়া সকাল ১০:৪১ থেকে দুপুর ১২:০৮, আর রাতের প্রথম শুভ চৌঘড়িয়া সন্ধ্যা ৫:৫৬ থেকে ৭:২৯।
আধুনিক পঞ্জিকা ও চৌঘড়িয়ার নির্ভুল প্রয়োগ
প্রাচীনকালে ঘড়ি ছিল না, তখন সূর্য ও ছায়া মেপে এই ভাগগুলো হিসাব করা হতো। আজ নির্ভুল চৌঘড়িয়ার জন্য দরকার নির্দিষ্ট শহরের অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ ধরে সেদিনের সঠিক সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, তারপর দিনমান ও রাত্রিমানের সমান আট ভাগ। MyAstrology-র পঞ্জিকা ঠিক এভাবেই, পাঠকের বেছে নেওয়া শহরের জন্য দিন ও রাতের চৌঘড়িয়া দেখায়।
"চৌঘড়িয়ার চক্র দেখায়, আমাদের কালগণনার প্রতিটি ভাগ একটি সুশৃঙ্খল গাণিতিক ছন্দে বাঁধা।"
❓ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: চৌঘড়িয়া গণনায় দিন ও রাতকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
উত্তর: দিনমানকে (সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত) ৮টি সমান ভাগে এবং রাত্রিমানকে (সূর্যাস্ত থেকে পরের সূর্যোদয়) ৮টি সমান ভাগে। প্রতিটি ভাগ একটি চৌঘড়িয়া।
প্রশ্ন ২: ৭ প্রকার চৌঘড়িয়া থাকা সত্ত্বেও কেন ৮ ভাগ?
উত্তর: ভাগ ৮টি, প্রকার ৭টি — তাই হোরার গ্রহক্রমে ৭টি পেরিয়ে চক্র ঘুরে ৮ম ভাগে আবার প্রথম চৌঘড়িয়াটিই আসে। দিন ও রাত দুই ক্ষেত্রেই এমন হয়।
প্রশ্ন ৩: একটি চৌঘড়িয়ার সময়কাল কি সারা বছর একই থাকে?
উত্তর: না। দিনমান বা রাত্রিমানকে ৮ দিয়ে ভাগ করে চৌঘড়িয়া পাওয়া যায়, তাই দিন-রাত সমান হলে তা ৯০ মিনিট, গ্রীষ্মের দিনে বেশি এবং শীতের দিনে কম।
হস্তরেখা বিচার₹১,০০১ থেকে
জন্মকুণ্ডলী₹১,৫০১ থেকে
বিবাহ মিলন₹২,০০১ থেকে
রত্নপাথরপরামর্শ
বাস্তু শাস্ত্রপরামর্শ
সংখ্যাতত্ত্বপরামর্শ
প্রশ্ন জ্যোতিষপরামর্শ
রাশিফলপ্রতিদিন বিনামূল্যে
পঞ্জিকাবাংলা তারিখ